ফাতাওয়া নুরুন আলাদ দারব লি-ইবনু বায
খন্ডঃ 1 | পৃষ্ঠাঃ 301
১১৪ - নাস্তিক ও আহলে কিতাবদের দাওয়াতের মধ্যে পার্থক্য
**প্রশ্ন:** হে সম্মানিত শাইখ, প্রশ্নকারিণী যেন নাস্তিকদের দাওয়াত এবং ইহুদি ও খ্রিস্টানদের দাওয়াতের মধ্যে পার্থক্য জানতে চাচ্ছেন। এ বিষয়ে কি কোনো নির্দিষ্ট পার্থক্য আছে? (১)
**উত্তর:** হ্যাঁ, এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইহুদি ও খ্রিস্টানদের আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস আছে এবং রাসূলগণের প্রতিও তাদের বিশ্বাস আছে, যদিও তাদের এই বিশ্বাস ত্রুটিপূর্ণ। এবং যদিও এই বিশ্বাস তাদের কোনো উপকারে আসবে না, কারণ তারা কুফর ও ঈমানকে মিশ্রিত করেছে।
তবে তাদের দাওয়াত দেওয়া সহজতর। কারণ, তাদের সাথে সেই কিতাবগুলো দ্বারা সম্বোধন করা হয় যা নবীদের উপর অবতীর্ণ হয়েছিল। তাদের সাথে আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস এবং আখিরাতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ে সম্বোধন করা হয়। এবং রাসূলগণের আনুগত্য করা ওয়াজিব হওয়ার বিষয়েও সম্বোধন করা হয়। তারা জানে যে, রাসূলগণের আনুগত্য অপরিহার্য। আর মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই রাসূলগণেরই একজন। তাঁর রিসালাতের উপর প্রমাণাদি পেশ করা হয় এবং তাদেরকে তাঁর প্রতি ঈমান আনতে ও তাঁর শরীয়তের অনুসরণ করতে আহ্বান জানানো হয়। এবং এই বিষয়েও আহ্বান জানানো হয় যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণ ব্যতীত কোনো মুক্তি নেই।
সুতরাং, ইহুদি ও খ্রিস্টানদের উপর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত। কারণ, নবীদের যুগ থেকে তাদের কাছে পূর্ববর্তী জ্ঞান বিদ্যমান। তাদেরকে (সত্য) বর্জন করতে প্ররোচিত করেছে কেবল প্রবৃত্তির অনুসরণ, হিংসা ও সীমালঙ্ঘন। বিশেষত ইহুদিরা, কারণ তারা হিংসা, সীমালঙ্ঘন, ক্রোধ ও একগুঁয়েমির জাতি। অনুরূপভাবে খ্রিস্টানদের সেই নেতারা যারা সত্যকে জেনেছিল, কিন্তু আখিরাতের উপর দুনিয়াকে প্রাধান্য দিয়েছে। ফলে তারা তাদের একগুঁয়েমি এবং সত্যকে অস্বীকার করার ক্ষেত্রে ইহুদিদের সদৃশ হয়ে গেছে, অথচ তারা জানে। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করি। তবে খ্রিস্টানদের উপর সাধারণত পথভ্রষ্টতা ও অজ্ঞতা প্রবল। আর তাদের শরীয়তের প্রমাণাদি দ্বারা শিক্ষা ও দিকনির্দেশনার প্রয়োজন।
---
(১) ১৭৩ নং ক্যাসেটের ষোড়শ প্রশ্ন।